সরে দাঁড়ালেন রওশন, এবার ভোটযুদ্ধে আ’লীগ-বিএনপি

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

একই সঙ্গে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিশাল আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীকে সমর্থন দিয়েছেন। এতে ত্রিশাল আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর ভোটযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা।

গত বুধবার (১২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে কাছে ত্রিশাল আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেন।

সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে রওশন চিঠিতে লিখেছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মাদানীকে সমর্থন দিয়ে আমি সরে দাঁড়ালাম।

তবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এটি গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করেছেন জানিয়ে সেন্টু বলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বিবেচনা করে জাপা মহাসচিব বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। কোনো প্রকার ক্ষোভ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেননি।

স্থানীয় একটি সূত্রের ভাষ্য, সদরে মহাজোটের একক প্রার্থী হওয়ায় সেখানে আওয়ামী লীগের ভোট ও কর্মীদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু ত্রিশালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় এই সুবিধা নেই। এককভাবে জাপার কর্মী নিয়ে নির্বাচন করা কঠিন হবে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে রওশন এরশাদ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর থেকে ত্রিশাল আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ ও দুই দলের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। এতে দলে কিছুটা হলেও হতাশা ছিল। তবে গত দুই দিনে নেতা-কর্মীরা দলের মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটনের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার মাহবুবুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রুহুল আমিন মাদানী ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মাদানীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় এখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একধরনের উৎসাহের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে ত্রিশাল আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন করে মাহবুবুর রহমানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*