যেভাবে ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা করা হয়

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

গণফোরামের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা লতিফুল বারী হামিম দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ গণফোরামের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। তাঁরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হকের সমর্থকেরা তাঁদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কামাল হোসেনের গাড়ি আগে বের হয়। তাঁর পেছনের গাড়িতেই ছিলেন আ স ম আবদুর রব। হামলার ঘটনায় আ স ম আবদুর রবের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, হামলায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কামাল হোসেনের গাড়ি আগে বের হয়। তার পেছনের গাড়িতেই ছিলেন আ স ম আবদুর রব। হামলার ঘটনায় আ স ম আবদুর রবের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।

গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দারের গাড়িসহ আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এ সময়।

হামলার জন্য আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন লতিফুল বারী। তিনি বলেন, হামলায় কামাল হোসেনের গাড়ি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও বহরের পেছনে থাকা ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আবদুর রব, জগলুল হায়দার আফ্রিক, ঢাকা-১৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সিদ্দিক সাজুর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১০-১২ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।

শায়রুল কবির খান জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আজ সকালে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান। তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বের হওয়ার পর গাড়িতে ওঠা মাত্র অতর্কিত হামলা চালায় একদল যুবক।

তারা ইটপাটকেল ছোড়ে ও লাঠিসোটা নিযে হামলা করে। ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন আহত হন।

হামলায় আহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৫০-৬০ জন ছেলে হঠাৎ বিএনপিসহ জাতীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। অনেকের মাথা ফেটে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার বিবরণে জানান, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান গেট দিয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় তার গাড়িবহরে লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা হয়। এ সময় পেছনে থাকা নেতাকর্মীরা কামালকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক পেটানো হয়। এতে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এতে কয়েকজন মাথায়সহ রক্তাক্ত জখম হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, সামান্য হইচই শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই। হামলার বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগও করেনি।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে নিজের ওপর হামলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আজ শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে ড. কামালসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*