জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি।

আজ শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন চেয়ারম্যানের সদ্যনিযুক্ত বিশেষ সহকারী, সদ্যসাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

নির্বাচনি ইশতেহারে এবারও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার কথা বলেছে জাতীয় পার্টি। ক্ষমতায় গেলে দলটি ঢাকা থেকে কমপক্ষে অর্ধেক সদর দপ্তর প্রাদেশিক রাজধানীতে স্থানান্তর করবে।

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করবে। আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের বিধান করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথাও বলছে দলটি। নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে থাকবে উপজেলার সব ক্ষমতা। চালু করা হবে উপজেলা আদালত ও পারিবারিক আদালত।

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে এক বছরের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। পাঁচ বছরের মধ্যে মামলাজট শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় দলটি।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে চায় জাতীয় পার্টি। দলটি ক্ষমতায় গেলে তিন মাসের মধ্যে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নির্মূল করবে।

ক্ষমতায় গেলে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখবে জাতীয় পার্টি। এছাড়া, দলটি সংবিধান সংশোধন করে সংসদের আসন সংখ্যা ৩৮০টি করতে চায়। এরমধ্যে নতুন ৩০টি আসন সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

ইশতেহারের সমাপনিতে বলা হয়, দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সময় এসেছে। ক্ষমতায় গেলে যেকোন কিছুর বিনিময়ে জাতীয় পার্টি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা পূরণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির ইশতেহারে যেসব বিষয়গুলো প্রধান্য পেয়েছে তা হলো- প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, দুই স্তর বিশিষ্ট সরকার কাঠামো, ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষকের কল্যাণ সাধন, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখা, ফসলি জমি নষ্ট না করা, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*